প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১১:০৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ২:১৩ পি.এম
বিরামপুরে মাদ্রাসায় ৩ শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক গ্রেপ্তার
মোঃ ইব্রাহীম মিঞা,দিনাজপুর
দিনাজপুরের বিরামপুরে একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় তিন শিশুশিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি, লোভ ও প্রলোভন দেখিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় মো. আলী হাসান (২৫) নামে এক যুবককে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।সে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার তিখুর গ্রামের মোঃ শহিদুল ইসলামের ছেলে।
বিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের একটি হাফেজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে তিন শিশু দীর্ঘদিন ধরে লেখাপড়া করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন সময় শিশুদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রলোভন দিয়ে তার শয়নকক্ষে নিয়ে যৌন নির্যাতন করতেন। ঘটনাটি কাউকে জানালে ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হতো বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট সকালে এক শিশুকে এবং ১ সেপ্টেম্বর রাতে অপর দুই শিশুকে মাদ্রাসার শয়নকক্ষে নিয়ে যাওয়ার পর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। পরে শিশুরা বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে কয়েকজন তাকে মারধর করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে খবর পেয়ে বিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। পরে তাকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান,সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে মানুষ করার আশায় আমরা তাদের মাদ্রাসা ও আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রেখে যাই।শিশুরা ভয় বা চাপের কারণে অনেক সময় ঘটনা জানাতে পারে না। তাই প্রতিষ্ঠানে কঠোর নজরদারি, জবাবদিহি এবং নিরাপদ আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
এ ঘটনায় এক শিশুর বাবা বাদী হয়ে ৪ সেপ্টেম্বর বিরামপুর থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
এবিষয়ে বিরামপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা শামীম আল মামুন বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং আসামিকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার