মোঃ ইব্রাহীম মিঞা,দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুরে র্যাবের অভিযানে একটি দেশীয় তৈরি কুড়ালসদৃশ অস্ত্রসহ মোঃ হাসিনুর সরকার (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার কাটলাহাট ইউনিয়নের খিয়ার মামুদপুর গ্রামে তার বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে The Arms Act, 1878-এর ১৯(এফ) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-১৩, সিপিসি-১, দিনাজপুর ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, ভোরে পাটনচরা বাজার এলাকায় টহল ও চেকপোস্ট ডিউটির সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, খিয়ার মামুদপুর গ্রামের হাসিনুর সরকারের বাড়িতে অস্ত্রসহ কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এরপর ভোর আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটে র্যাবের একটি দল হাসিনুর সরকারের বাড়িতে পৌঁছালে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে এক ব্যক্তি বাড়ির দরজা খুলে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে র্যাব সদস্যরা তাকে আটক করেন।
র্যাবের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হাসিনুর সরকারের দেওয়া তথ্য ও দেখানো অনুযায়ী তার শয়নকক্ষের কাঠের খাটের নিচ থেকে একটি দেশীয় তৈরি স্টিলের পাইপের হাতলযুক্ত দু-মুখো লোহার কুড়ালসদৃশ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা অস্ত্রটির দৈর্ঘ্য ২১ দশমিক ৫ ইঞ্চি, প্রস্থ ৭ দশমিক ৫ ইঞ্চি এবং ওজন ৬৮০ গ্রাম বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় তার কাছ থেকে একটি পুরোনো কালো রঙের LAVA A3 Vibe বাটন মোবাইল ফোন ও একটি সিমকার্ডও উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও গ্রেপ্তার ব্যক্তির কাছ থেকে সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। পরে ঘটনাস্থলে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে আলামত জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় র্যাবের পক্ষ থেকে বিরামপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হাসিনুর সরকার ও জব্দকৃত আলামত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১৩ জানিয়েছে, অস্ত্র ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার