মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে সরকারি কাজে বাধা, ডিউটিরত পুলিশ সদস্যকে মারধর এবং সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করার অভিযোগে দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫–৬ জনের বিরুদ্ধে বিরামপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিরামপুর থানার এসআই (নিঃ) মো. আল-আমিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের অর্পিত পুকুর ইজারা সংক্রান্ত প্রকাশ্য ডাক (নিলাম) উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যরা ইউএনও কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং ইউএনওর কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতি ধারণ করতে গেলে এক পুলিশ সদস্যকে বাধা দেওয়া হয় এবং তাকে মারধর করে আহত করা হয়। পরে আহত পুলিশ সদস্যকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়া মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ১৮৬, ৩৩২, ৩৪১, ৩৫৩ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এবিষয়ে বিরামপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা শামিম আল মামুন বলেন,মামলাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার