প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১১:১১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ৭:৫৬ এ.এম
বিরামপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা
মোঃ ইব্রাহীম মিঞা,দিনাজপুর প্রতিনিধি
“মানব, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বিরামপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, বিরামপুরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র্যালি বের হয়ে উপজেলা গেট থেকে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ তানজিনা খাতুন। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছাঃ রুনা লায়লা, বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আল মামুন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান, উপজেলা তথ্য আপা মোছাঃ মুক্তা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস সালাম, উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আল সিরাজ, বিরামপুর উপজেলা কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামসহ একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, সাক্ষরতা শুধু পড়তে ও লিখতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একজন মানুষকে জ্ঞান, দক্ষতা ও সচেতনতার মাধ্যমে নিজের জীবন ও সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করাই সাক্ষরতার মূল উদ্দেশ্য। একটি শিক্ষিত ও সচেতন জনগোষ্ঠীই পারে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ তানজিনা খাতুন বলেন,সাক্ষরতা একটি মানুষের মৌলিক সক্ষমতা অর্জনের অন্যতম ভিত্তি। শুধু নিজের নাম লিখতে বা পড়তে পারাই সাক্ষরতা নয়; শিক্ষা ও জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখার সক্ষমতাও এর সঙ্গে জড়িত।
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী যেন ঝরে না পড়ে, সেদিকে আমাদের বিশেষ নজর দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন,শিক্ষার মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব। তাই একটি জ্ঞানভিত্তিক, সচেতন ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে সাক্ষরতার গুরুত্ব অপরিসীম। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার