সোহাগ মিয়াজী:
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ও কুমিল্লা দক্ষিন জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের বলেছেন, চব্বিশের জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলে এ দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।
আজ মুক্ত পরিবেশে নাগরিক সমাবেশ করতে পারছি। অনেক লড়াই-সংগ্রামের পর ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকারের বিদায় হয়েছে, আমরা আজ এ অবস্থায় এসেছি।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন যতোবার বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে, দেশে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়েছে। সবসময়ই উন্নয়নের জোয়ার এসেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।

বিকেলে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখেছেন- সরকার গঠনের পর প্রথম অধিবেশনেই কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল পাস হয়েছে। কুমিল্লার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে।
বিশেষ করে কুমিল্লা-৬ সদর আসনের যিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। রাজনীতিতে আমি তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি।
কীভাবে এলাকার উন্নয়নে কাজ আদায় করতে হয়, তা আমি তার কাছ থেকে শিখেছি। তিনি আরো বলেন, প্রতিটি বিভাগে স্পোর্টস কমপ্লেক্স স্থাপনের জন্য বড় একটি প্রকল্প আসছে।

কুমিল্লা এখনো বিভাগ হয়নি, তারপরও ইনশাআল্লাহ কুমিল্লায় স্পোর্টস কমপ্লেক্স স্থাপনের প্রকল্পটি আসছে। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুজ্জামান ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে নাগরিক সভায় উন্নয়ন প্রস্তাবনা পেশ করেন কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকারের ৩ মাসেই কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ওয়াসা গঠন হয়ে গেছে। সিটি কর্পোরেশনের সীমানা বৃদ্ধির কাজ চলমান।

আপনারা বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থা রাখেন, কথা দিচ্ছি তারেক রহমানের হাতে এ দেশ পথ হারাবে না। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া স্বপন ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাহিদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, কুমিল্লা বারের পিপি অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক মিয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুসহ জেলা মহানগরের নেতৃবৃন্দ।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার