ডেস্ক নিউর্জ
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও ১১-দলীয় ঐক্যের নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, বিএনপির ঘরে, বিএনপির প্রত্যেকটা কর্মীর ঘরে ঘরে কান্নার রোল শুরু হয়ে গেছে। ক্ষমতা হারালে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাস্তানি বন্ধ হয়ে যাবে-এমন আশঙ্কা থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বানে লংমার্চ কর্মসূচির প্রাক্কালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লংমার্চ-পূর্ব উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অলি আহমদ বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাবে, সন্ত্রাস বন্ধ হয়ে যাবে, মাস্তানি বন্ধ হয়ে যাবে। তারেকের যে সরকার এটা বিএনপির সরকার না, এটা হলো হাসিনার সরকার। তারেককেও সাবধান হতে হবে। দেশবাসীকেও সাবধান হতে হবে।
ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা বোঝাতে বক্তব্যে একটি উদাহরণ দিয়ে এলডিপি সভাপতি বলেন, ক্ষমতা চলে গেলে বড় বাড়ি, গাড়ি ও ভালো খাবারের সুযোগ থাকবে না-এমন আশঙ্কা থেকেই একজন ক্ষমতাবান ব্যক্তির পরিবারের কান্নার উদাহরণ দেওয়া যায়।
লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে থাকেন। বিপথগামী হবেন না। শুধু দেশকে সঠিক পথে আনার জন্য আমরা এই লংমার্চ করছি। কোনো ক্ষমতার লোভে বা ব্যক্তিগত কোনো লোভে নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বক্তব্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, ফেসবুকে কে কী লিখলো, কোনো মুনাফেক কোনো বেঈমান কিংবা ভারতের দালালরা কী লিখলো সেদিকে কান দেবেন না।
অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় কাজ ‘ঈমানি শক্তিতে’ করার আহ্বান জানিয়ে লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা করেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার