সাব্বির হোসাইন
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
বরুড়া থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ এক নারী, চুরি হওয়া ট্রান্সফর্মারসহ এক যুবক এবং সন্তানকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বরুড়া থানায় মামলা রুজু করে আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হকের নেতৃত্বে এসআই মিশন চৌধুরী সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালান।
পুলিশ জানায়, বরুড়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের দেওড়া এলাকায় রহিম আলী হাজী বাড়ীর মাসুদ আলমের দোকানের সামনে পাকা রাস্তা থেকে ৩২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোছা. সামছুন নাহার ওরফে পরানী বেগম (৩৫) কে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি বরুড়ার দেওড়া উত্তরপাড়া, আব্দুল আজিজ মেম্বার বাড়ি। এ ঘটনায় বরুড়া থানায় মাদক আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
অপরদিকে বরুড়ার খোশবাস উত্তর ইউনিয়নের রহিমপুর উত্তরপাড়ায় বারেকের বাড়ীর পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে চুরি হওয়া ১টি পুরাতন সিঙ্গেল ফেজ ট্রান্সফর্মার উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রহিমপুর গ্রামের মো. সাইমন (২১) কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়া বরুড়ার শাকপুর ইউনিয়নের শাকপুর গ্রামে মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে নিজ সন্তানের গলায় ধারালো ব্লেড দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মাদকাসক্ত হাফেজ কাউসার (৩৩) কে গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়াও বরুড়া থানায় রুজুকৃত অপর একটি নিয়মিত মামলায় আরও ১ জন আসামীকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বরুড়া মডেল থানার ওসি কাজী নাজমুল হক বলেন, "মাদক ও চুরির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার