সাব্বির হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নের চৌওড়ী এলাকায় মোবারক হোসেন (৮০) নামে এক বৃদ্ধ দর্জির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে চৌওড়ী শহীদ স্মৃতি ক্যাডেট একাডেমির পাশের একটি বাগান থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা মরদেহটি দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে এলাকায় লোকজন জড়ো হয়।
নিহত মোবারক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বরুড়া বাজারের এমএস ফার্মেসির সামনে বসে লুঙ্গি সেলাইয়ের কাজ করতেন। তিনি বরুড়া বাজারের একজন পরিচিত মুখ ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি ও কীটনাশকের একটি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কাজী নাজমুল হক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি কাজী নাজমুল হক বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত আছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কের কিছুটা অবনতি ছিল। তবে এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক আছে কি না তা তদন্তের পর জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার