সাব্বির হোসাইন
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত এক নারীর কাদা-মাখা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের মুখমণ্ডল বিকৃত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চিতড্ডা ইউনিয়নের উত্তর উড্ডা গ্রামে একটি ফসলি জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে উত্তর উড্ডা এলাকায় কাদার মধ্যে এক নারীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে বরুড়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারের সময় নিহত নারীর দুই পা দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল এবং মাথা কাদা-মাটির নিচে চাপা অবস্থায় ছিল। মুখমণ্ডল কাদায় ঢাকা ও বিকৃত থাকায় প্রাথমিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কাজী নাজমুল হক বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে। এটি হত্যা নাকি অন্য কিছু তা ময়নাতদন্তের পর বোঝা যাবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিচয় শনাক্তে পুলিশ আশপাশের থানাগুলোতে খবর দিয়েছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার