ডেস্ক নিউজ
বিতর্ক আর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড যেন বলিউড র্যাপার হানি সিংয়ের জীবনের নিত্যসঙ্গী। প্রায়শই নানা মন্তব্য ও কাণ্ড ঘটিয়ে শিরোনামে উঠে আসেন ভারতের জনপ্রিয় র্যাপার ও গায়ক হানি সিং। এবার মহারাষ্ট্র সাইবার পুলিশের তলবে হাজির হননি তিনি। দিল্লিতে একটি কনসার্টে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে তলব করা হয়েছিল। হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়ে আদালতে যাওয়ার পাশাপাশি লুক-আউট সার্কুলার (এলওসি) জারির প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে জানিয়েছে মহারাষ্ট্র সাইবার পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার মহারাষ্ট্র সাইবার পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তার সামনে হাজির হওয়ার কথা ছিল হানি সিংয়ের। তবে তিনি হাজির না হয়ে আরও সময় চেয়েছেন।
মহারাষ্ট্র নোডাল সাইবার পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, হানি সিংকে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি হাজির হননি এবং আরও কিছু সময় চেয়েছেন। এখন উপযুক্ত আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি যেন দেশ ছাড়তে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে লুক-আউট সার্কুলার জারির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দিল্লির একটি কনসার্টে হানি সিংয়ের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই মামলা হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাকে গাড়িতে যৌন সম্পর্ক নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে সাইবার পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয় এবং মামলা করা হয়।
পরে এক ভিডিও বার্তায় হানি সিং ওই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান। তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যের একটি অংশ সম্পাদনা করে এমনভাবে ছড়ানো হয়েছে, যাতে মানুষ ক্ষুব্ধ হন। কাউকে আঘাত, অপমান বা কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্য তার ছিল না বলেও জানান তিনি।
হানি সিং বলেন, একজন গাইনি চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি তরুণদের মধ্যে অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের কারণে যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি নিয়ে সচেতন করার চেষ্টা করেছিলেন। জেন-জেড প্রজন্ম যেভাবে বুঝতে পারবে, সেই ভাষায় বিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। তবে তার বক্তব্য দেওয়ার ধরনটি যথাযথ হয়নি বলে স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও আইনি জটিলতায় পড়েছিলেন হানি সিং। তার ‘ভলিউম ১’ গানকে ‘অত্যন্ত অশ্লীল, অশোভন ও নারীদের প্রতি অবমাননাকর’ উল্লেখ করে দিল্লি হাইকোর্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফাইল শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম থেকে গানটির ইউআরএল সরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মার্চ ২০২৫ সালে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইনডোর স্টেডিয়ামে একটি কনসার্টে হানি সিং ও র্যাপার বাদশাহর ওই গানের দুই লাইন পরিবেশনের অভিযোগে হিন্দু শক্তি দল আদালতে আবেদন করেছিল। সংগঠনটির দাবি ছিল, ২০০৬ সালে প্রকাশিত গানটি আপত্তিকর এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশুরাও এটি সহজেই দেখতে পারে। মে মাসে দিল্লি হাইকোর্ট এ বিষয়ে হানি সিংকে হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার