ডেস্ক নিউজ
মাগুরার প্রশাসনের একটি অংশ বিএনপির নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ছাত্রলীগ ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা ইউনিয়ন বিএনপির কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন। তার দাবি, প্রশাসনের এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
রবিউল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘মাগুরার প্রশাসনের বিভিন্ন কাজকর্মে দেখতে পাচ্ছি, বিএনপির নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ছাত্রলীগ ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। মাগুরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদককে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মহম্মদপুর উপজেলায় সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে ৯২ জনের মধ্যে ২৫ জন ছাত্রলীগের কর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা বিএনপির নেতারা এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো সুরাহা হয়নি।’
‘এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রশাসনের একটি অংশ গোপনে বিএনপির আবেগের জায়গা তারেক রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। যারা বিএনপি ও তারেক রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে চান, তাদের মাগুরা ও মাগুরা-২ আসনের মাটিতে এক চুলও ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আবারও আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
আমরা নির্বাচনের আগেও জনগণের সঙ্গে ছিলাম, জীবনের শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত আপনাদের পাশেই থাকব।’
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে যুবদলের এই নেতা বলেন, ‘আর কয়েক মাস পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। আপনারাই পছন্দ করে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করবেন এবং সেই প্রার্থীকে নির্বাচিত করে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করবেন।’
নহাটা রানী পতিত মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত কর্মিসভায় সভাপতিত্ব করেন মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বাচ্চু। এ ছাড়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কর্মিসভায় উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার