ডেস্ক নিউজ
প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন আইনি জটিলতা, বিরোধ ও সংকট দ্রুত নিরসনে একটি বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে তৈরি হওয়া প্রস্তাবটি বর্তমানে খসড়া পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই এটি আলোর মুখ দেখবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে রিফ্যুজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট আয়োজিত অভিবাসনবিষয়ক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী ভাই-বোনদের যেকোনো ধরনের সমস্যা, আইনি সংকট এবং প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি বিশেষ আদালত গঠনের নীতিগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আদালত গঠনের রূপরেখা এখন খসড়া পর্যায়ে আছে। আশা করছি খুব দ্রুতই এটি বাস্তবায়িত হবে।
অনুষ্ঠানে রামরুর উপদেষ্টা ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার বলেন, দেশের অর্থনীতিতে অভিবাসন খাতের অবদান অনস্বীকার্য। অভিবাসন খাতকে নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনতে পারলে জাতীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাজেটে পর্যাপ্ত আর্থিক বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর এবং রামরুর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মেরিনা সুলতানা। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও অভিবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার