মোহাম্মদ মাসুদ রানা, স্টাফ রিপোর্টার
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব ফজলুল হক মাস্টারের নাতি এবং তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র আলহাজ্ব মো. সৈয়েদুর রহমান সরকারের কনিষ্ঠ পুত্র মাসরুর সাকিব ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম অংশগ্রহণেই প্রশাসন ক্যাডারে মেধাতালিকায় ১২তম স্থান অর্জন করে বিরল সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে প্রকৌশলে স্নাতক সম্পন্ন করা মাসরুর সাকিব বর্তমানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন এসএমই ফাউন্ডেশনে কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষক পরিবারের সন্তান হিসেবে ছোটবেলা থেকেই মেধা, অধ্যবসায় ও শৃঙ্খলার পরিচয় দিয়ে আসা এই তরুণ নিজেও দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন গঠনে ভূমিকা রেখেছেন। এবার তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক সেবায় যোগদানের মাধ্যমে নতুন দায়িত্ব পালনের সুযোগ অর্জন করলেন।
মাসরুর সাকিবের শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে। ২০১৬ সালে এসএসসি এবং ২০১৮ সালে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করার পর তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এ ভর্তি হন। ২০২৪ সালে সেখান থেকে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন।
তাঁর পিতা মো. সৈয়েদুর রহমান সরকার বোদা উপজেলার পাথরাজ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং মাতা মোর্শেদা খানম একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তাঁর সহধর্মিণী বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের সিনিয়র কর্মকর্তা। এছাড়া তাঁর বড় ভাই ও ভাবি উভয়েই বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।
স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের মতে, প্রকৌশল শিক্ষায় দক্ষ একজন মেধাবী তরুণের প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান সরকারি প্রশাসনকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মাসরুর সাকিবের এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনে খানসামা উপজেলাসহ সমগ্র দিনাজপুরে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষাবিষয়ক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে সফল কর্মজীবন কামনা করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার