আ:রাজ্জাক,পাথরঘাটা
পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে একদল চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও কুচক্রী মহলের হাতে সাধারণ জেলেরা চরমভাবে লাঞ্ছিত ও হামলার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ এলাকায় চাঁদাবাজদের বাধা দিতে গেলে তিন জেলেকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) রেফার করা হয়েছে।
হামলার বিস্তারিত ঘটনা স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ জালাল খা এবং তার সহযোগী জেলেদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছিল।
আজ সেই বিরোধের জেরে বিবাদী পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাধারণ জেলেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তিনজকে মারাত্মকভাবে জখম করা হয় এবং একজনের পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের জরুরি ভিত্তিতে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ এর আগে পাথরঘাটা মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জেলেরা অভিযোগ করেছিলেন যে, মোঃ বাবুল খান (৫৫), মোঃ সিরাজ (৫০), মোঃ জসিম (৩৫) এবং মোঃ শাহিন (৪০)-সহ একটি চক্র নদী ও এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত প্রধান অভিযোগগুলো হলো: অযৌক্তিক চাঁদা দাবি: নদীতে জাল পাতার বিনিময়ে জেলেদের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। চাঁদা না দিলে নদীতে নামতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। মালামাল লুট: ইতিপূর্বে বিবাদীরা জেলেদের প্রায় ৩,৫০,০০০/- (তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা মূল্যের জাল ও দড়ি লুট করে নিয়ে যায়।
হুমকি ও হয়রানি: বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সামনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং আইন-কানুন বা সামাজিক কোনো রীতিনীতি তারা মানছে না।
নিরাপত্তাহীনতায় গ্রামবাসী হামলার পর থেকে ২নং ওয়ার্ডের সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী জেলেরা জানান, থানায় জিডি করার পরেও সন্ত্রাসীদের দাপট কমেনি, বরং তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আজ প্রকাশ্যে মারধর ও পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় পুরো জেলে পল্লীতে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রশাসনের প্রতি দাবি ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ও জেলে সম্প্রদায়ের পক্ষে মোঃ জালাল খা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন যে:
১. এই হামলার সাথে জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।
২. লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারসহ সাধারণ জেলেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. এলাকায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে এই অরাজকতা বন্ধ করতে হবে।
এলাকাবাসী এই বর্বরোচিত হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার