মোঃফারুক হোসেন, পাইকগাছা।
খুলনার পাইকগাছা মৎস্য আড়ৎদারি সমিতি থেকে বহিস্কার করার জন্য নির্বাচিত ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে থানায় পরিকল্পিত মামলা করা হয়েছে। এমন অভিযোগ করেছেন নির্বাচিত ক্যাশিয়ার হারুন অর রশীদ।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার গোপালপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে হারুন অর রশীদ। এছাড়াও তিনি পাইকগাছা মৎস্য আড়ৎদারী সমিতির বার বার নির্বাচিত ক্যাশিয়ার। তিনি আড়ৎ থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রজাতির লক্ষ, লক্ষ টাকার মাছ কিনে দেশের বিভিন্ন আড়তে চালান দেন। ঐ টাকা পেয়ে পাওনাদারদের পরিশোধ করেন অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মতো।
এমনিভাবে গত ১৩,১৪ ও ১৫ই আগষ্ট তিনি মোট ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ৭'শ ৮০ টাকার মাছ ক্রয় করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নরসিংদীসহ কয়েকটি আড়তে চালান মাধ্যমে বিক্রি করেন। উক্ত টাকা আদায় করে পাওনাদারদের পরিশোধ করার কথা থাকে। কিন্তু এর মধ্যে তিনি জরুরী কাজে ১৬ আগষ্ট ঢাকায় যান। এরই মধ্যে গুজব তুলা হয় মৎস্য আরৎএর ক্যাশিয়ার হারুন ৪০ লক্ষ টাকার মাছ কিনে আত্মসাৎ করে পালিয়েছে।
একই সাথে এ অভিযোগে পাইকগাছা থানায় সোলাদানা মৎস্য আড়তের স্বত্বাধিকারীকে দিয়ে সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক ক্যাশিয়ার হারুনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে ক্যাশিয়ার হারুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এটা জেনে আমি হতবাক হয়েছি। মাত্র ১ দিনের ব্যবধানে আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অভিযোগ তুলে ৪০ লাখ টাকার মামলা দেয়া হয়েছে। আমি আড়ৎ থেকে টাকা পেয়েই পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করে দেবো। আমিতো ব্যবসা করি। কোন অসৎ উদ্দেশ্য আমার মধ্যে নেই। তবে বর্তমান কমিটি সভাপতি ও সেক্রেটারি উদ্দেশ্যমূলক ভাবে পুর্বের কমিটির সভাপতি, সেক্রেটারিসহ ৯ সদস্যকে বহিস্কার করার পর আমাকে চুড়ান্তভাবে বহিস্কার করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ বিষয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন বলেন, সমিতির ক্যাশিয়ার হারুনকে কয়েক মাস আগে সাময়িক ভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। বর্তমান সে ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এছাড়াও এবার স্থায়ীভাবে তাকে বহিষ্কার করা হবে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার