জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবিগুলোকে অযৌক্তিক বলার সুযোগ নেই। নতুন বাংলাদেশে কোনো বৈষম্য চলতে পারে না। তিনি অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্দোলনরত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ এসব কথা বলেন।
জামায়াতের এই কেন্দ্রীয় নেতা আরও বলেন, তারা রাস্তা বন্ধ করছে না, জনদুর্ভোগও সৃষ্টি করছে না। তারা বিদ্যুৎ সেবা চালু রেখে এবং জনভোগান্তি সৃষ্টি না করে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে প্রমাণ করেছে যে, তারা দেশপ্রেমিক। কোনো ষড়যন্ত্রের তকমা দিয়ে তাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করা যাবে না।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন এবং দমন-পীড়ন বন্ধ, কর্মপরিবেশ অস্থিতিশীল করার দায়ে আরইবি চেয়ারম্যানের অপসারণসহ ৭ দফা দাবিতে গত বুধবার থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী।
মঙ্গলবার তাদের আন্দোলনে আরও সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা জালাল আহমেদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামাল হোসেন এবং এনসিপি, জুলাই ঐক্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার