📰 কাগাবলায় পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধ সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাগাবলা ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে চলমান পরিবেশ দূষণের প্রতিবাদে সচেতন নাগরিকদের আয়োজনে একটি শান্তিপূর্ণ ও অর্থবহ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
১৭ জুন মঙ্গলবার রাত ০৮ ঘটিকায় কাগাবলা বাজার সিএনজি স্ট্যান্ডে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাতবাক গ্রামের পূর্ব দিকে অবস্থিত কাজী ফার্ম থেকে নির্গত তীব্র দুর্গন্ধ তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ বিপর্যয়ের বাস্তবতা তুলে ধরে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে একটি গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পরিচালিত হয়।



ফোরামের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিসমূহ:
১. পরিবেশ দূষণের বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ
২. পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি নিরপেক্ষ দল কর্তৃক সরেজমিন পরিদর্শন
৩. কাজী ফার্ম কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ও টেকসই সমাধানমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ
আয়োজক ও কাগাবলা উন্নয়ন ফোরামের আহ্বায়ক সাকিবুর রহমান মেরাজ জানান-
> “এই উদ্যোগ কোনো দলীয় বা সংঘাতমূলক আন্দোলন নয়, বরং জনস্বার্থে শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক এক নাগরিক প্রচেষ্টা। আমরা পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
আলোচনা শেষে উপস্থিত জনসাধারণের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, গণস্বাক্ষরসংবলিত একটি লিখিত পিটিশন আগামীকাল জেলা প্রশাসক (DC) মৌলভীবাজার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO) মৌলভীবাজার সদর বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, দুর্গন্ধের কারণে এলাকাবাসী বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। ঘরের জানালা খোলা রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, এমনকি রাস্তায় চলাচল করাও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকার মানুষ এখন এক কণ্ঠে বলছেন:
“পরিবেশ বাঁচান – মানুষ বাঁচান।
একটি সুস্থ, নিরাপদ কাগাবলার জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।”
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার