ডেস্ক নিউজ
রাজধানীর কদমতলীতে ছিনতাই শেষে পালানোর সময় পথচারীর হাতে ধরা পড়েন অটোচালক জনি। তাকে ছাড়িয়ে নিতে পথচারীকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করেন সহযোগী বাপ্পি। তবে ছুরির আঘাত পথচারীর গায়ে না লেগে জনির বুকে বিদ্ধ হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে মারা যান জনি। এ ঘটনায় জড়িত দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে পিবিআই।
পিবিআই বলছে, ছিনতাই শেষে পালানোর সময় পথচারীদের হাতে ধরা পড়েন অটোচালক জনি (৩৫)। জনি পথচারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে ছুটতে না পারায় আসামি বাপ্পি তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে পথচারীকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন। কিন্তু আঘাতটি পথচারীর পরিবর্তে নিজের দলের সদস্য জনির বুকে ঢুকে আটকে যায়। এ ঘটনায় সঙ্গীর আঘাতেই প্রাণ হারান জনি।
পুলিশ সুপার এস এম মোস্তাইন হোসেন বলেন, হত্যার শিকার মো. জনি পেশায় অটোচালক। তিনি গত ২৯ আগস্ট রাত ১টার দিকে বাসা থেকে বাহির হন। পরে ভোর ৫টার দিকে কদমতলী থানাধীন জুরাইন মোক্তার হোসেন সড়কে বুকে ছুরিকাঘাত অবস্থায় পেয়ে কদমতলী থানার টহল পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল নেওয়ার পর তিনি মারা যান। ভুক্তভোগীর মা ডালিয়া (৬০) অজ্ঞাতপরিচয়ের আসামিদের বিরুদ্ধে কদমতলী থানার মামলা দায়ের করেন।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মেহেদী হাসান বাপ্পিকে (২৮) গত ৯ অক্টোবর রাতে কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত অন্য আসামি মো. নুর আলম বারেক (২৪), কদমতলী এলাকা থেকে ১০ অক্টোবর রাতে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতার আসামিরা ভুক্তভোগী জনিসহ ঘটনার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে ছিনতাই করার জন্য মামলার ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থলে দুজন পথচারীকে আসতে দেখে তারা পথচরীদের পথরোধ করে তাদের নিকট থাকা মোবাইল ও নগদ টাকাসহ পথচারী একজনের কাঁধে থাকা একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
পরে আসামিরা ছিনতাই শেষে চলে যাওয়ার সময় একজন পথচারী ভুক্তভোগী ছিনতাইকারী জনিকে ধরে ফেলে। জনি পথচারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে ছুটতে না পারায় আসামি বাপ্পি তার হাতে থাকা ছোরা দিয়ে পথচারীকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন। কিন্তু আঘাতটি পথচারীর পরিবর্তে ভিকটিম জনির বুকে ঢুকে ছোরাটি আটকে যায়। তখন জনি চিৎকার দিলে আসামি বাপ্পিসহ তার সহযোগী নুর আলম বারেকসহ ছিনতাই করা মোবাইল ও নগদ টাকা নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।পরে পথচারীদের চিৎকারে পাশের গলির দারোয়ান এসে পুলিশকে খবর দিলে থানা পুলিশ জনিকে মৃত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায়।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার