ডেস্ক নিউজ
আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক এ অর্থ ঋণ হিসেবে দেবে, আর ঋণের গ্যারান্টি দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। কয়েক ধাপে এ অর্থ ছাড় করা হবে। এর বড় অংশ দিয়ে আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।ৎ
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ন্যাশনাল ব্যাংক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা চেয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি অর্থ না দিয়ে ঋণের জামিনদার হিসেবে থাকবে।
সূত্রগুলোর ভাষ্য, অতীতের অনিয়ম ও আর্থিক দুরবস্থায় সংকটে পড়া ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে ১৫ অক্টোবর থেকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের প্রস্তুতি শুরু করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক। গত রোববার (১১ অক্টোবর) থেকে টাকা উত্তোলনের আবেদন নেওয়া হচ্ছে, যা চলবে বুধবার (১৪ অক্টোবর) পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থেকে আমানতকারীরা টাকা তুলতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন বলেন, ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যাংকটির সব শাখা ও এটিএম চালু করা হবে। সব শাখায় আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের চাহিদা নেওয়া হচ্ছে। ২০ অক্টোবর থেকে আবেদন না করলেও সব গ্রাহক টাকা ফেরত পাবেন বলে জানান তিনি।
মেলিতা মেহজাবীন আরও বলেন, অনেক আমানতকারী আপাতত টাকা তুলতে চাইছেন না। ফলে উত্তোলনের আবেদনও তুলনামূলক কম এসেছে। ব্যাংকটি স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি জানান, নিজস্ব তহবিল থেকে গ্রাহকদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। আবেদন অনুযায়ী নগদ অর্থের ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন দেখা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার