সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে।
আজ শুক্রবার জামায়াতে ইসলামের সোনাইমুড়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করা হয় জামায়াত ইসলামীর পক্ষ হতে। এ ঘটনায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মো. শাহাব উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সোনাইমুড়ী উপজেলার নদনা ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পাঁচবাড়িয়া সালেহ আহমদ কেরানী বাড়ির সামনে গণসংযোগ শেষ করে ফিরে যাওয়ার সময় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
হামলার নেতৃত্ব দেন পাঁচবাড়িয়া গ্রামের বিএনপি কর্মী শিমুল (পিতা—মৃত রুহুল আমিন)। এ সময় মাহবুবুল হক, হালিম, জাবেদ, গোলাম মুর্তজা ও রাসেলসহ ১০ থেকে ১৫ জন হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় পাঁচবাড়িয়া ওয়ার্ডের সভাপতি মনির হোসেনসহ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মী ওমায়ের, শিহাব ও আরও কয়েকজন আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে দলটি। এসময় শাহাবউদ্দিন বলেন, এ হামলার ঘটনায় কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি বা সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার