মোঃ আল আমিন খান , রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
উপজেলা পর্যায়ের সরকারি সেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলো উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন, উৎসব ভাতা থেকে শুরু করে উন্নয়ন প্রকল্পের বিল উত্তোলন সবই এই দপ্তরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তরই যদি কার্যত কর্মকর্তা শূন্য থাকে, তাহলে জনসেবার চিত্র কেমন হতে পারে।
এমনই বাস্তব চিত্র দেখা গেছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার হিসাবরক্ষণ অফিসে।
জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরের অডিট পদে নিয়োজিত থাকা পারভেজ ইসলাম নিয়মিত রাঙ্গাবালী অফিসে উপস্থিত না থেকে পার্শ্ববর্তী গলাচিপা উপজেলায় অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি নিজেও বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সম্মতিতে আমি গলাচিপা থেকেই রাঙ্গাবালীর দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করি।
এছাড়া একই দপ্তরের এসএএস সুপার আশরাফ উদ্দিনের বিরুদ্ধেও নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকার অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র বলছে, দপ্তরের বেশিরভাগ কার্যক্রমই গলাচিপা উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে পরিচালিত হচ্ছে। দপ্তরের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এভাবেই কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসএএস সুপার আশরাফ উদ্দিন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী গণমাধ্যমে কোনো তথ্য বা বক্তব্য দেওয়ার পারমিশন নেই। কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এটিকে দপ্তরের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, তাদের দপ্তরের কার্যক্রম অন্যান্য দপ্তরের তুলনায় ভিন্ন নিয়মে পরিচালিত হয়।
অন্যদিকে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা একাউন্টস অফিসার জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও একইভাবে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার