সাব্বির হোসাইন,
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
"দৈনিক স্বাধীন ভোর" এ সংবাদ প্রচারের পর অবশেষে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আগানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লকের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ওয়াশ ব্লকের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা না থাকায় শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিল। বিশেষ করে ছাত্রী এবং বর্ষা মৌসুমে সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠতো।
ওয়াশ ব্লকের কাজ শুরু না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে "দৈনিক স্বাধীন ভোর" এ প্রতিবেদন প্রচারিত হলে কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওয়াশ ব্লকের কাজ শুরু হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে খুশির আমেজ দেখা গেছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শফিউল হক বলেন, "এই ওয়াশ ব্লকের কাজটি দ্রুত শেষ করে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার উপযোগী করা হবে। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।"
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুকলা বাণী চক্রবর্তী বলেন, "গণমাধ্যমে নিউজ আসার পরপরই কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছেন। স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশ ব্লক না থাকায় শিক্ষার্থীদের অনেক সমস্যা হতো। কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত।"
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বলেন, "এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। নিউজ প্রচারের পর দ্রুত কাজ শুরু হওয়ায় আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।"
জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আধুনিক সুবিধা সম্বলিত এই ওয়াশ ব্লকে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা টয়লেট, হাত ধোয়ার বেসিন ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা থাকবে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার