সাব্বির হোসাইন
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
কুমিল্লার দেবীদ্বারে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল ৫টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ডালপাড় বিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের মো. রমিজ মিয়ার ছেলে মো. সবুজ মিয়া (২৪) ও একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. ইসমাইল (২৯)। তারা দুজনই প্রবাস থেকে দেশে এসেছেন এবং সম্পর্কে খালাতো ভাই।
মামলা ও ভিক্টিমের ভাষ্যমতে, ঘটনাটি ঘটে গত ৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টায়। কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের ফুলগাছতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে ওই কিশোরীকে ডেকে নেয় সবুজ। পরে গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে অটোরিকশায় করে সবুজের বাড়িতে নিয়ে যায় সবুজ ও ইসমাইল। সেখানে তারা পালাক্রমে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এসময় ঘটনা কাউকে জানালে এসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেওয়া এবং বাবাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
একপর্যায়ে কৌশলে ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে বাড়িতে এসে দাদিকে ঘটনা জানায় ভিক্টিম।
ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রেখে অভিযুক্তরা দালের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ভিক্টিমের দাদির সঙ্গে মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ঘটনার ৪ দিন পর ৮ জুলাই পুলিশ ভিক্টিম ও তার বাবা-মাকে থানায় ডেকে আনে। পরে ভিক্টিমের মা বাদী হয়ে সবুজ ও ইসমাইলকে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দেবীদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) বলেন, "গোপন সংবাদ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করি। এসআই ফিরোজসহ একদল পুলিশ নিয়ে কসবার ডালপাড় বিলে অভিযান চালাই। তারা বিলের মাঝে নির্জন স্থানে খুপড়ি ভাড়া করে অবস্থান করছিল। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে নৌকা থেকে ঝাঁপ দিয়ে তাদের আটক করা হয়।"
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, "ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখার পর অভিভাবকদের ডেকে এনে মামলা দায়ের করাই। ভিক্টিমের ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে আদালতে ২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলা দায়েরের ১১ দিনের মধ্যেই আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তারা নারী পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা তাও যাচাই করা হচ্ছে।"
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার