প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১১:০৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ২:৪৪ পি.এম
দূতাবাসের ছাড়পত্র পেয়ে দেশে ফিরলো বেনাপোল মৃত্যুবরনকারী ভারতীয় পাসপোর্টযাত্রীর মরদেহ
জাকির হোসেন,বেনাপোল (শার্শা) প্রতিনিধি :
ভারতীয় দূতাবাসের ছাড়পত্র নিয়ে দেশে ফিরলো যশোরের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে মৃত্যুবরনকারী ভারতীয় পাসপোর্টযাত্রী গৌতম মিস্ত্রি (৫৫) এর মরদেহ।
গত ২২ আগস্ট ভিসা নিয়ে স্বামী স্ত্রী বাংলাদেশে আসেন। বরিশালে আত্মীয়ের বাড়ি বেড়িয়ে দেশে ফেরার সময় গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্ট্রোক করে বেনাপোলে মৃত্যু বরন করেন তিনি। তার পাসপোর্ট নং ঞ-৩৩৬১৬১১। তিনি কলকাতার ৭৮/১, কালিয়া নগর সুরিয়া সেন পল্লীর রমনী মিস্ত্রীর ছেলে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দিকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তার মরদেহ ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে দেশে ফিরে গেছে।
মরদেহের সাথে থাকা গৌতম মিস্ত্রির স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রি জানান, দুই সপ্তাহ আগে আমি আমার স্বামী গৌতম মিস্ত্রিকে নিয়ে বাংলাদেশের বরিশালে আমার বাবার বাড়ি এবং অন্য আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। গত বুধবার দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য বেনাপোলে আসি। গাড়ি থেকে নামার পর পরই আমার স্বামী গৌতম মিস্ত্রি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাংলাদেশ অংশে মারা যাওয়ায় বিভিন্ন কাগজপত্রের কারনে মৃতদেহ নিয়ে দেশে ফিরতে পারিনি। প্রায় তিনদিন পর হাসপাতাল থেকে ডেথ সার্টিফিকেট, স্থানীয় থানার জিডি এবং ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ছাড়পত্র নিয়ে স্বামীর মরদেহ নিয়ে শুক্রবার দেশে ফিরে যাচ্ছি। তবে বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমি অনেক কৃতজ্ঞ। আমার কাছে কোন টাকা পয়সা ছিল না। এ দেশের মানুষ আমাকে টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করেছে। মরদেহ গাড়িতে উঠানো নামানো থেকে শুরু করে সার্বিক সাহায্য তারা করেছে।
তিনি আরো বলেন, বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি স্যার এবং স্থানীয় কিছু লোকজন বেশকিছু টাকা পয়সা জোগাড় করে দিয়েছিলেন। যা দিয়ে ঢাকা যাওয়া আসা খাওয়া দাওয়া সব খরচ এদেশের মানুষ বহন করেছে। কিন্তু আমার নিজের ভাইকে ফোন করেছিলাম সে আমাদের দেখতে পর্যন্ত আসেনি। এদেশের মানুষের মানবিকতাকে ধন্যবাদ জানানো ছাড়া আমার আর কিছু দেওয়ার নেই।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান বলেন, গত বুধবার স্ট্রোকজনিত কারনে মৃত্যুবরনকারী ভারতীয় পাসপোর্টযাত্রীর মরদেহ শুক্রবার বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরে গেছে। যেদিন ওই যাত্রী মারা গিয়েছিলেন সেদিন মৃত গৌতম মিস্ত্রির স্ত্রীর কাছে ডেথ সার্টিফিকেট এবং থানার জিডি কপি ছাড়া আর কোন কাগজপত্র ছিলনা। পরে দূতাবাসের ক্লিয়ারেন্স আনার পর বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রি স্বামীর মরদেহ নিয়ে ভারতে চলে গেছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার