ডেস্ক নিউজ
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করতে সারাদেশে আগাম নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এর অংশ হিসেবে প্রতিমা নির্মাণস্থান, পূজামণ্ডপ ও মন্দির পরিদর্শন করছেন বাহিনীর সদস্যরা।
মাঠপর্যায়ে আনসার-ভিডিপির সদস্যরা পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং প্রতিমা নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। এ সময় প্রতিমার নিরাপত্তা, পূজা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পূজা উদযাপন কমিটি ও আনসার-ভিডিপি সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ভাতাভোগী আনসার-ভিডিপি সদস্যরা এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
পরিদর্শনকালে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, প্রবেশ ও বহির্গমন ব্যবস্থাপনা, আলোকসজ্জা ও অগ্নিনিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া পূজাকালীন দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের আবাসন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পূজা উদযাপন কমিটিগুলোকে অনুরোধ করা হচ্ছে। পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতাও কামনা করা হচ্ছে।
শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনের জন্য আনসার-ভিডিপির সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে সারাদেশে বাহিনীর আগাম প্রস্তুতি ও মাঠপর্যায়ের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার