মোঃ শরিফুল ইসলাম, দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৮ কেজি গাঁজা ও ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে মাদক মামলায় তিনজন, ডাকাতি মামলায় দুজন, নিয়মিত মামলায় একজন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত একজন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় থানা পুলিশের পৃথক দল এসব অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, এসআই আজিজুল ইসলাম, এসআই রবিউল ইসলাম, এসআই রেজোয়ানুল ইসলাম, এসআই আবুল কাওসার, এসআই আরিফুর রহমান, এসআই দিবাকর বড়ুয়া ও এএসআই মাহবুবুর রহমান সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে থানা এলাকায় অভিযান চালান।
অভিযানে ৮ কেজি গাঁজা ও ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার লতুয়ামুড়া এলাকার সায়মা আক্তার (১৯), কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কান্দুঘর এলাকার সুমি বেগম (২৩) এবং দাউদকান্দির সবজিকান্দি এলাকার শরীফ হোসেন (৩৩)।
এ ছাড়া ডাকাতি মামলায় উত্তর সতানন্দী পূর্বপাড়া এলাকার মো. আরিফ (২৮) ও তুজারভাঙ্গা এলাকার মো. রমজান হোসেন (৩৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিয়মিত মারামারি মামলার এজাহারনামীয় আসামি গৌরীপুর পশ্চিম বাজার এলাকার মো. আল আমিন হোসেন (৪৫) এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি দক্ষিণ পেন্নাই এলাকার মো. সোহেল রানাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার সাত আসামিকে তাদের সংশ্লিষ্ট মামলায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার