সাব্বির হোসাইন
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ১৪ বছরের অটোচালক রিফাতকে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই মামলার মূল ৩ আসামিকে গ্রেফতার করেছে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ। একইসাথে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২২ এপ্রিল দিবাগত রাত থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের রামনগর ব্রিজ এলাকা থেকে রিফাত নামের ওই কিশোর অটোচালককে হত্যা করে তার অটোরিকশা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে ব্রিজের নিচে রিফাতের মরদেহ ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় রিফাতের মা সুমি আক্তার বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি হত্যা ও ছিনতাই মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারে মাঠে নামে পুলিশ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাজেদুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এসআই মো. রবিউল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রবিবার গভীর রাতে দাউদকান্দি পৌরসভা ও কুমিল্লা শহরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে হত্যা ও ছিনতাই মামলার মূল তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বনকুট মুন্সী বাড়ির ফজলুল হকের ছেলে মো. শাহজাল (৩৬), কোতোয়ালী থানার কুচাইতলীর সুরাজ মিয়ার ছেলে মো. সুমন মিয়া (৩৫) এবং একই এলাকার আবু মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া (৩১)। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।
দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, "এটি একটি চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। আসামিরা একটি শিশুকে হত্যা করে ব্রিজের নিচে ফেলে দিয়ে তার অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা তাদেরকে গ্রেফতার এবং ছিনতাইকৃত যানটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।"
গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার