নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শুধু দলীয় পরিচয়ের কারণে কেউ যেন জুলুমের শিকার না হয়। আমরা এই দেশ ও দেশের নাগরিকদের ভালোবাসি। যদি কেউ জুলুমের শিকার হন তাহলে আমরা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।
তিনি আরও বলেন, সরকারি ও বিরোধী দল মিলে যেন মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে পারি- সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনের উদ্যোগে এতিমদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এতিমদের থেকে আমরা মনিমুক্তাে বের করে আনতে চাই। তাদের এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই, যেন তারা দেশ ও জাতি গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘যে কাজ করলে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন, আমরা আশা রাখবো সরকার সেই কাজটাই করবে।’
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের চার সাংবাদিকের চাকরি হারানোর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটা সাংবাদিকদের স্বাধীনতার ওপর নির্লজ্জ আঘাত। আমরা সরকারের কাছে আশা রাখবো সাংবাদিকদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হবে। নইলে আমরা মনে করবো সরকার একনায়কতন্ত্রের দিকে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক।
সভাপতির বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ইসলামপ্রিয় ও কোরআন প্রিয়। তারা কোরআনের চেতনায় বিশ্বাস করে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরী উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, থানা আমির ও থানা সেক্রেটারিসহ স্থানীয় নেতারা।
ইফতার মাহফিলে প্রায় এক হাজার এতিম শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার