প্রেস বিজ্ঞপ্তি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়া কুষ্টিয়ার কুমারখালীর মেধাবী শিক্ষার্থী মো. আলামিন হোসেনের পাশে দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক পিএলসি। আলামিন হোসেন কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের ভ্যানচালক আলেফ আলীর বড় সন্তান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। আর্থিক সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। সম্প্রতি এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়। পরবর্তীতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আলামিনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করে।
২৯ সেপ্টেম্বের মঙ্গলবার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় মো. আলামিন হোসেনের শিক্ষা ব্যয় নির্বাহের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ব্যাংকের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল থেকে এককালীন ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার চেক আলামিন হোসেনের হাতে তুলে দেন। পাশাপাশি তাঁর শিক্ষাজীবন সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়। এসময় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান, পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকবৃন্দ ও প্রতিষ্ঠানের কোম্পানি সেক্রেটারি উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার