প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১১:০৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১২:২৮ পি.এম
ডেঙ্গুতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজছাত্রীর মৃত্যু, গর্ভের শিশুও বাঁচেনি
মাহফুজ বাবু
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নূর জাহান। মৃত্যুর সময় তিনি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার গর্ভে থাকা অনাগত শিশুটিও মারা গেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় নূর জাহানের মৃত্যু হয়।
নূর জাহান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামী জোবায়ের হোসেন। তাদের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মোছাগাড়া গ্রামে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে জোবায়ের হোসেনের সঙ্গে নূর জাহানের বিয়ে হয়। তিনি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। আগামী মাসেই তাদের সন্তান জন্ম নেওয়ার কথা ছিল।
নূর জাহানের স্বামী জোবায়ের হোসেন বলেন, “আগামী মাসে আমাদের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কথা ছিল। গত শুক্রবার আমার স্ত্রীর সামান্য জ্বর আসে। পরে নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে কুমিল্লায় চিকিৎসা নেওয়া হয়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে তার মৃত্যু হয়।”
নূর জাহানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষসহ বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান ভূঞা বলেন, “আমাদের প্রিয় ছাত্রী নূর জাহান অত্যন্ত ভদ্র মেয়ে ছিলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তিনি অংশগ্রহণ করতেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে আমরা অত্যন্ত ব্যথিত। আজ বাদ জোহর গ্রামের বাড়িতে অনুষ্ঠিত জানাজায় কলেজের শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।”
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাসার ভূঁইয়া বলেন, “একজন মেধাবী ছাত্রীর এ অকালমৃত্যু সত্যিই অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে নূর জাহানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার