বেলাল হোসেন ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার মাদারগঞ্জ (হাজীপাড়া) এলাকায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকা অবস্থায় প্রায় ১২০টি সুপারি গাছ ও একটি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভূল্লী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জমির দাবিদার মোঃ আব্দুর রাজ্জাক। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কেটে ফেলা গাছগুলো থানায় নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ভূল্লী উপজেলার ৩ নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড মাদারগঞ্জ মৌজায়। সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে এবং আগামী ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মামলার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে সেখানে থাকা প্রায় ১২০টি সুপারি গাছ ও একটি মেহগনি গাছ কেটে ফেলেন। এতে আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে মোঃ আল-আমিন, মোছাঃ রুবা, মোছাঃ সুফিয়া খাতুন, আব্দুল মজিদ, হাফিজুল, হাসিফুল, মোঃ রফিকুল ইসলাম ও মোঃ মাজেদুলসহ আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের অবহিত করে ভূল্লী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সেখানে কেটে ফেলা গাছ দেখতে পায়। এ সময় জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান এবং নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কেন বিরোধপূর্ণ জমিতে গিয়ে গাছ কাটা হয়েছে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চায় পুলিশ।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকা কেটে ফেলা সুপারি ও মেহগনি গাছগুলো থানায় নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নতুন করে গাছ কাটার ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে গাছ কাটার খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহ ও সরেজমিনে তথ্য যাচাই করতে ঘটনাস্থলে যান দৈনিক যুগের আলো পত্রিকার সাংবাদিক শাহিন আলম। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা অবস্থাতেই সাংবাদিককে হাফিজুল, হাসিফুল, মোছা: সাবিনা, আল-আমিন ও রফিকুল বিভিন্ন ধরনের গালাগালি ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন।
তিনি পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও কেটে ফেলা গাছের ছবি-ভিডিও ধারণ করে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই তাকে উদ্দেশ করে গালাগালি করা হয় এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার হয়।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে একজন সাংবাদিককে গালাগালি ও সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমিতে গিয়ে গাছ কাটার ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিককে গালাগালি ও সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি এবং সাংবাদিককে গালাগালির অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার