প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৫, ২০২৬, ৪:২৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ৩০, ২০২৬, ১০:৪৪ এ.এম
জোটে মূল্যায়নের অপেক্ষায় জাতীয় পার্টি, সহযোগিতা থাকবে বিএনপি সরকারকে: কাজী নাহিদ।
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)-এর কেন্দ্রীয় মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কাজী নাহিদকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) চৌদ্দগ্রামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য আহসান হাবিব লিংকন। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ চৌধুরী পাশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দলের কো-চেয়ারম্যান নবাব আলী আব্বাস খান, চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান সমন্বয়ক ফারভেজ শেখ হৃদয়, চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির উপদেষ্টা এসএম আজিজ, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা খবির আহমেদ মজুমদার ও গুনবতী জাতীয় পার্টির নেতা জাকির হোসেন জিগির। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা যুবসংহতির আহ্বায়ক কাজী শহীদ।
সংবর্ধনার জবাবে কাজী নাহিদ বলেন, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদের রাজনৈতিক ভূমিকা দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানসহ পরবর্তী রাজনৈতিক আন্দোলনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কাজী নাহিদ বলেন, “কাজী জাফর আহমেদ ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে লেখা থাকবে। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে পল্টন ময়দানের ঐতিহাসিক সমাবেশ থেকে তিনি পূর্ব বাংলার স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রামের কারণে সামরিক আদালতে তাঁকে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং বেত্রাঘাতের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো কিছুই তাঁকে থামিয়ে রাখতে পারেনি।”
তিনি বলেন, “আজ তাঁর রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে আমাকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব নির্বাচিত করায় আমি দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কাজী নাহিদ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন এবং বিএনপির প্রতি তাঁদের পূর্ণ সমর্থন ছিল।
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় জননেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বকে আমরা সহযোগিতা করছি। আমরা সরকারকে সময় দিতে চাই। কারণ একটি সরকারকে মূল্যায়ন করতে হলে তাকে সময় দেওয়া প্রয়োজন।”
জোটের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)-কে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, একসময় কুষ্টিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম সক্রিয় ছিল এবং সংসদে দলটির পাঁচজন সদস্যও ছিলেন।
কাজী নাহিদ বলেন, “বিএনপি বারদলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল হিসেবে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)-কে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেনি—এ নিয়ে অনেকের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। জোটের আন্দোলন-সংগ্রামে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)-এর ভূমিকা কী ছিল, তা জনাব তারেক রহমান জানেন।”
২০১৮ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতা চাইলে সংসদ সদস্য হতে পারতেন। তবে তাঁরা ওই নির্বাচনে অংশ নেননি। দলের নেতারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কাজী নাহিদ জানান, সম্প্রতি ওমানে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের আলোচনা হয়েছে। সেখানে জাতীয় পার্টিকে মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। “আমরা সেই অপেক্ষায় আছি,” বলেন কাজী নাহিদ।
অনুষ্ঠানে উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুল হক পাটোয়ারী, উপজেলা যুবসংহতির নেতা বিল্লাল হোসেন স্বপনসহ মুন্সিরহাট, চিওড়া, গুনবতী, বাতিসা, কনকাপৈত, কাশিনগর, আলকরা ও জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা কাজী নাহিদের নতুন দায়িত্বকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে নেতাকর্মীরা নবনির্বাচিত মহাসচিব কাজী নাহিদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার