মো. ইব্রাহিম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর লক্ষীপুর এলাকায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সময় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন অটোচালক মো. নবীরুল ইসলাম (৪০)। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি।
নিহত নবীরুল ইসলাম দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. সাহার উদ্দিনের ছেলে। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনের মতো শনিবার (১৮ জুলাই) রাতেও অটোরিকশা নিয়ে বের হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তার জীবনের শেষ যাত্রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নবীরুল ইসলাম ফুলবাড়ী উপজেলার ৫ নম্বর খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর লক্ষীপুর গ্রামের কূর্শাখালী অরক্ষিত রেলগেট সংলগ্ন সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় আগে থেকেই ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার অটোরিকশার গতিরোধ করে। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে জোরপূর্বক অটো থেকে নামিয়ে ধরে রাখে। পরে প্রধান অভিযুক্ত মো. আকাশ আহম্মেদ (২২) ধারালো ছুরি দিয়ে তার বুকে ও পেটে উপর্যুপরি আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে দুর্বৃত্তরা অটোরিকশাটি ছিনিয়ে পালিয়ে যায়।
রক্তাক্ত অবস্থায় নবীরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানালে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল লতিফ শাহ্ জানান, ঘটনার পরপরই ফুলবাড়ী, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ঘোড়াঘাট থানা এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত মো. আকাশ আহম্মেদকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ফুলবাড়ী থানা হাজতে রয়েছেন।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার