ডেস্ক নিউজ
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের রাজনৈতিক বক্তব্যের ধারাবাহিকতা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জামায়াত ও এনসিপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন এই প্রতিক্রিয়া জানান। সেখানে তিনি জামায়াতে ইসলামীর দাবিনামা পরিবর্তন এবং এনসিপির কর্মসূচিতে জনসম্পৃক্ততার অভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন জামায়াত আমিরের পূর্ববর্তী ও বর্তমান বক্তব্যের তুলনা করে লেখেন, আগের লং মার্চে জামায়াতের আমির বলেছিলেন যে জাতির প্রয়োজনে তাদের ৬ দফা দাবি ১ দফায় পরিণত হতে পারে। অথচ এবারের কর্মসূচিতে তিনি বলছেন ৮ দফা দাবি ১ দফায় রূপ নেওয়ার কথা। রাশেদ খাঁনের প্রশ্ন, ‘জাতি কি জানে, তার প্রয়োজনে কখন ৬ দফা ৮ দফায় পরিণত হলো?’ তিনি মন্তব্য করেন, যে নেতৃত্ব নিজেদের দাবিদাওয়া সুনির্দিষ্ট করতে পারে না, তারা কোনো একটি বিশেষ গোষ্ঠীর নেতা হতে পারলেও পুরো জাতির নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা রাখে না।
একই পোস্টে এনসিপির রাজনৈতিক কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, শুক্রবার ছুটির দিনে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের চেয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিই বেশি ছিল। কোনো ধরনের প্রশাসনিক বাধা না থাকার পরও কেন সাধারণ মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়নি, এনসিপি নেতৃত্বকে তা ভেবে দেখার পরামর্শ দেন তিনি।
নেতৃত্বের দ্বিমুখী অবস্থানের কারণেই জনগণ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করেন রাশেদ খাঁন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন যে দেশের মানুষ জামায়াতের নেতৃত্বকে কখনো গ্রহণ করবে না। কিন্তু পরবর্তীতে নাহিদ ইসলাম নিজেই যখন জামায়াত আমিরের নেতৃত্ব মেনে নিলেন, তখন থেকেই দেশের সাধারণ মানুষ এই দুই নেতার কোনো আহ্বানেই আর সাড়া দিচ্ছে না।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার