সাব্বির হোসাইন
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া এবং তা নিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টির ঘটনায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ৭ শিক্ষককে একসঙ্গে বদলি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এত শিক্ষকের একসঙ্গে বদলির ঘটনা এটাই প্রথম।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বদলি হওয়া শিক্ষকরা হলেন- উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম - কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজে (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ), গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেক - কক্সবাজার সরকারি কলেজ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়া - নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদার - লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহ - ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিন - সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন - বরগুনা সরকারি কলেজ
গত ১৩ জুলাই সকালে অতিবৃষ্টির কারণে কুমিল্লা শহরের সব সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ ও আশপাশের এলাকাও পানিতে ডুবে যায়। ওইদিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু ডিঙি নৌকা দিয়ে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দেন। নৌকায় চড়ে পরীক্ষার্থীদের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এবং দেশের সব গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন।
এরপর গত ১৮ জুলাই কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে জলাবদ্ধতা ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই সময় তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে সরকার ও শিক্ষামন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
বদলির বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, "মন্ত্রণালয় চাইলে যে কোনো সময় যে কাউকে বদলি করতে পারে। এটি নিয়মিত বদলিরই অংশ।"
একসঙ্গে এত শিক্ষকের বদলি কোনো শাস্তি কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "এটা মন্ত্রণালয় ভালো জানে। আমি এর বেশি কিছু বলতে পারব না।"
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার