প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১০:৫১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১০:০২ এ.এম
জমিতে স্প্রে করতে গিয়ে হিট স্ট্রোকে কৃষকের মৃত্যু
মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বিরামপুরে কৃষিজমিতে কীটনাশক স্প্রে করার সময় প্রচণ্ড রোদের মধ্যে অসুস্থ হয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন(৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।চিকিৎসকের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গরমের কারণে হিট স্ট্রোক হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক বেলা সাড়ে ১১ টার সময় উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ঝগড়ুপাড়া গ্রামের সন্দলপুর এলাকায় নিজ কৃষিজমিতে স্প্রে করার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।মৃত আব্দুল্লাহ আল মামুন ঝগড়ুপাড়া গ্রামের মোঃ আজমল হোসেন এর ছেলে।
স্বজন ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, কৃষক আব্দুল্লাহ আল মামুন সন্দলপুরে নিজের জমিতে কীটনাশক স্প্রে করছিলেন। এ সময় প্রচণ্ড রোদ ও গরমের মধ্যে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। অতিরিক্ত গরমের কারণে হিট স্ট্রোক হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ফসল রক্ষায় কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ ব্যবহার করা প্রয়োজন হলেও প্রচণ্ড রোদে জমিতে স্প্রে করা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করলে শরীরে পানিশূন্যতা ও অতিরিক্ত তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ে।
একজন কৃষকের এমন মৃত্যু কৃষিকাজে নিরাপত্তা ও সচেতনতার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। ফসলের পাশাপাশি কৃষকের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আখতারুজ্জামান বলেন, প্রচণ্ড রোদ এড়িয়ে তুলনামূলক ঠান্ডা সময়ে জমিতে স্প্রে করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, প্রয়োজনীয় বিরতি নেওয়া এবং কীটনাশক ব্যবহারের সময় মাস্ক, গ্লাভস, দীর্ঘ হাতার পোশাকসহ সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি কীটনাশকের বোতলে থাকা নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত মাত্রায় ও নিরাপদ পদ্ধতিতে স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার