ডেস্ক নিউজ
দেশের প্রয়োজনে ছাত্রসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে লেখাপড়া ও ক্লাসের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া যাবে না। বই ও পাঠাগারকে শিক্ষার্থীদের জীবনের অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলা একাডেমির মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত জিয়া স্মৃতি বইমেলায় আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার এ বইমেলার আয়োজন করে।
মঈন খান বলেন, ‘ছাত্রসমাজ সবকিছু করবে, দেশের বিপদে তারা এগিয়ে আসবে। যেমন তারা এগিয়ে এসেছিল জুলাইয়ে। তারা দেশকে নতুন দিকদর্শন দিয়েছে। অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন ও স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করেছে। কিন্তু লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে নয়। ক্লাস ছেড়ে দিয়ে আমি অন্য কিছু করব, সেটা হতে পারে না। আমি সবকিছু করব, কিন্তু আমি ক্লাসের লেখাপড়া কোনো দিন ছেড়ে দেব না।’
নতুন প্রজন্ম সেলুলার ফোনসেটে পড়ুক, ই-বুক পড়ুক কিংবা লাইব্রেরিতে গিয়ে পড়ুক, পড়ার চর্চা ধরে রাখতে হবে বলে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘মোবাইল ফোনে (সেলুলার ফোন) সবকিছু খারাপ নয়। এতে অনেক ভালো জিনিসও পাওয়া যায়। নতুন প্রজন্ম ও শিশুদের সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারলে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের আহ্বায়ক সৈয়দা ফাতেমা সালাম। সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান। উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি এবং বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার