চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ২৩০ পিস ইয়াবা ও ২৩ বোতল বিদেশি মদসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত কামাল হোসেন ভুঁইয়া উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের আমানগন্ডা গ্রামের মো. আলী ভুঁইয়ার ছেলে।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক তারেক আকাশ শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আমানগন্ডা গ্রামে কামাল হোসেন ভুঁইয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল। অভিযানকালে তার কাছ থেকে ২৩০ পিস ইয়াবা ও ২৩ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কামাল ভুঁইয়া মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। এছাড়া মহাসড়কের পাশে নোয়াপাড়া এলাকার নতুন বাড়িতে নারীদের দিয়ে অনৈতিক কাজ ও অনলাইন জুয়া পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, তার প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেতো না।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক তারেক আকাশ বলেন, "মাদকসহ কামাল ভুঁইয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
এদিকে মাদকসহ কামাল ভুঁইয়াকে গ্রেফতার করায় নোয়াপাড়া ও আমানগন্ডা গ্রামের সচেতন মহল পুলিশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার