আবদুল মান্নান চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সিএনজি অটোরিকশা চালক বিল্লাল হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামী মোজাম্মেল হোসেনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মোজাম্মেল উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
বুধবার দুপুরে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীপুর ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে গত ২৪ জুলাই বিরোধের জেরে জয়নাল আবেদীনের পরিবার রাস্তার ওপর বাঁশের খুঁটি দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। বিষয়টি জানতে পেরে বিল্লাল হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা বাধা সরাতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোজাম্মেল হোসেনের ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিল্লাল হোসেনের মাথায় আঘাত করেন বলে তাদের অভিযোগ।
গুরুতর আহত অবস্থায় বিল্লালকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ আগস্ট মঙ্গলবার রাতে বিল্লাল হোসেনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এজাহার নামীয় প্রধান আসামী মোজাম্মেল হোসেনকে মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের চাঁন্দগাঁও এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ ও র্যাব-৭ এর যৌথ টিম। চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, চট্টগ্র্রামের চাঁন্দগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার আসামী মোজাম্মেল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার