চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে মাদক ও জুয়ার সামাজিক ব্যাধি দূর করার লক্ষ্যে এক প্রতিবাদী ও সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চৌমুহনী বাজার ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে মুজিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয় হল রুমে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, "মাদক ও জুয়া সমাজ ও পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে তরুণ সমাজকে এসব থেকে দূরে রাখতে হবে। প্রশাসন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এই সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে স্থানীয়দের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।"
চৌমুহনী বাজার কমিটির সভাপতি ডাক্টর আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেন ,চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই মোরশেদ আলম, শ্রীপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম, শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি শাহজাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন মিঠু, শ্রীপুর ইউনিয়ন যুব বিভাগের সভাপতি রবিউল হোসেন, স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা মোরশেদ আলম, সামছুল আলম ও জাকির হোসেন এছাড়া সমাবেশে বক্তব্য দেন মজিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা আকতার, সাবেক ইউপি সদস্য ফরিদ উদ্দিন, মজিবুর রহমান মনজু, বিএনপি নেতা মারুফ এবং স্থানীয় জামায়াত নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা স্পষ্ট বার্তা দেন যে, চৌমুহনী বাজার ও আশপাশের এলাকায় কোনো ধরনের মাদক কেনাবেচা বা জুয়ার আসর বরদাশত করা হবে না। বাজারটিকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে ব্যবসায়ী, প্রশাসন ও সুশীল সমাজ একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সুধীজন, ব্যবসায়ী ও সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ উপস্থিত থেকে মাদক ও জুয়াবিরোধী আন্দোলনের প্রতি তাঁদের পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার