প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১১:০৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ৬:১৬ পি.এম
চৌদ্দগ্রামে দুর্বৃত্তদের আগুনে হারানো ঘর—প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ফিরছে নতুন ঠিকানা
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
গত ৪ এপ্রিল রাতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে একদল দুর্বৃত্ত অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। এতে কৃষক মিলন সহ অন্তত পাঁচটি পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং তারা সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন।
এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে ও অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
তারই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মাসকরা গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য নতুন বাড়ি নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
“আমরা বিএনপি পরিবার”-এর সিনিয়র সদস্য মাসুদ রানা লিটনের নেতৃত্বে এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের উপস্থিতিতে একটি প্রতিনিধি দল এ কার্যক্রম সম্পন্ন করে।
এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ কামরুল হুদা। আরও উপস্থিত ছিলেন “আমরা বিএনপি পরিবার”-এর সদস্য মোস্তাকিম বিল্লাহ, ফরহাদ আলী সজীব, রুবেল আমিন, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মীরা।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি নৈতিক দায়িত্ব। “আমরা বিএনপি পরিবার” সেই দায়িত্ববোধ থেকেই সবসময় অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার