মাহফুজ বাবু ; কুমিল্লা
কুমিল্লার চান্দিনায় সরকারি খালের একাংশ ভরাট করে ব্যক্তিগত চলাচলের রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রূপনগরে ক্ষীরনদীর একটি শাখা খালের পাড়ের অর্ধশতাধিক গাছ কেটে বাঁশের বেড়া দিয়ে বালুভর্তি বস্তা ফেলে প্রায় ১০ ফুট চওড়া রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। গত বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিলেও চার দিন পর রবিবার সরেজমিনে গিয়ে সেখানে রাস্তা নির্মিত অবস্থায় দেখা গেছে।
এ ঘটনায় তিনটি উপজেলার পানি প্রবাহের পথ এ সরকারি খালের জায়গা দখল ও জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। রূপনগর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ওবায়দুর রহমান শিশনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে খালটি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রূপনগর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ওবায়দুর রহমান শিশনসহ দুই ব্যক্তি ক্ষীরনদীর শাখা খালের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না রেখেই দুটি বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জায়গা ব্যবহার করে যাতায়াত করলেও সম্প্রতি খালের একাংশ ভরাট করে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ কাজে রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়া থাকার অভিযোগও উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে জড়িত কারো নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তরা।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মাণের খবর পেয়ে চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এম ইঞ্জারুল হকের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে অভিযান চালান। এ সময় রাস্তা নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু রবিবার (১১ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের এক পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে বালুভর্তি বস্তা ফেলে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত এ রাস্তা তৈরিতে খালের জায়গা ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সরকারি খাল কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ভরাট করা হলে তা সবার জন্য উদ্বেগের বিষয়। খালটি এলাকার পানি নিষ্কাশন ও স্বাভাবিক জলপ্রবাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে খালের জায়গা ভরাট করে রাস্তা তৈরি করা হলে ভবিষ্যতে পানি চলাচলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাঁরা সরকারি জায়গার সীমানা নির্ধারণ করে খালের জায়গা রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুর রহমান শিশন বলেন, আমি ১২ বছর ধরে চলাচলের পথ নিয়ে ভোগান্তিতে আছি। তাই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হলে তাঁরা আমাকে আপাতত খালের পাড় দিয়ে রাস্তা বানিয়ে চলাচলের পরামর্শ দেন।
যদিও গণ্যমান্য ব্যক্তি কারা এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিশন কারো নাম প্রকাশ করতে চাননি।
এ বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এম ইঞ্জারুল হক বলেন, খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।গতকাল সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জায়গাটি পরিমাপ করা হয়েছে,এখন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সরকারি জায়গা দখল করার এখতিয়ার কারও নেই।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার