ডেস্ক নিউজ
স্বৈরাচারের দোসররা নিজেদের চরিত্র পরিবর্তন করতে না পারলে তাদের আর চাকরি করার দরকার নেই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সেইসঙ্গে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অন্যায় নির্দেশ পালন করা কর্মকর্তাদের ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সুশাসন নিশ্চিতকরণ-সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে যা হয়েছে, তা আমরা জানি। ফ্যাসিবাদের দোসররা যদি তাদের চরিত্র পরিবর্তন করতে না পারে, তবে তাদের আর চাকরি করার দরকার নেই।
সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জনগণের প্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা একসঙ্গে কাজ না করলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। অতীতের ভুল পেছনে ফেলে নতুন করে কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিগত ২০ বছরের যে ক্ষতি হয়েছে, আগামী ৫ বছরে তা পূরণ করতে হবে। আমরা আর পেছনে তাকাতে চাই না।
সভায় মাদক, জুয়া ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথাও তুলে ধরেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। জামিনে গিয়ে অপরাধীরা যেন পার না পায়, সে বিষয়ে আজ বিকেলেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। প্রয়োজনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পিপিপি (পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ) মডেলে প্রশস্তকরণ, শম্ভুগঞ্জ বাজারের সার গুদাম মেরামত, বিভাগীয় শহরের রাস্তা সম্প্রসারণ এবং ময়মনসিংহে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া এ বছরের মধ্যেই সরকার অত্যন্ত স্বল্প খরচে ৩ লাখ যুবকের বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। একইসঙ্গে অসচ্ছল পরিবারের ১০ হাজার যুবককে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিদেশে পাঠানো হবে বলেও সভায় জানানো হয়।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান। ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলার ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার