ডেস্ক নিউজ
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম নগরের পূজামণ্ডপের আশপাশে হকার ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের বসতে না দেওয়া, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, মশক নিধন এবং সড়কের খানাখন্দ সংস্কারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, নগরের আন্দরকিল্লা, দেওয়ানবাজারসহ যেসব এলাকায় পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হবে, সেসব মণ্ডপের আশপাশে কোনো হকার বা ভাসমান ব্যবসায়ী বসতে পারবেন না। পূজামণ্ডপে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত এবং জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন মেয়র।
সভায় মেয়র বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। নগরবাসী যেন নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশে এ উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে চসিকের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দর্শনার্থীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পূজামণ্ডপসংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মেয়র। উৎসব চলাকালে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজর দিতে বলা হয়।
এ ছাড়া পূজামণ্ডপগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রকৌশলগত সহায়তা দিতে প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দেন তিনি। মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে মণ্ডপের আশপাশে মশার ওষুধ ছিটানোর জন্য ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন মেয়র।
নগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে আগ্রাবাদ মোড় থেকে জাদুঘর মোড় পর্যন্ত সড়কের খানাখন্দ সংস্কার এবং মিড আইল্যান্ড সংস্কার করে সেখানে ফুলের গাছ লাগানোর নির্দেশনাও দেন তিনি।
নগরের যেসব এলাকায় অবৈধ হকার ও দখলের কারণে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, সেসব এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন মেয়র। ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রেখে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেন তিনি।
এদিকে, নগরের বাইসাইকেল ট্র্যাকে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে সাইকেল চালকদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশনা দেন মেয়র। ট্র্যাকে অবৈধ পার্কিং বন্ধে নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, স্পেশাল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রকৌশলীরা বক্তব্য দেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার