ডেস্ক নিউজ
চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁওয়ে অপহরণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এক বছর ৯ মাস বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি- ৭)। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত ১৫ বছর বয়সী এক শিশুকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া শিশু সাবিহা নূর (১ বছর ৯ মাস) চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কদুরখিল গ্রামের মো. বোরকান উদ্দিন টিটুর মেয়ে। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় বসবাস করেন।
এসআরবি- ৭ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে চান্দগাঁওয়ের কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় মদিনা ভাতঘরের পেছনে নিজেদের বাসা থেকে কৌশলে শিশুটিকে নিয়ে যায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর। পরে তাকে তার মামা-মামির কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।
ঘটনার পর শিশুটির বড় চাচা বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় মামলা করেন। মামলাটি ১৮ সেপ্টেম্বর নথিভুক্ত করা হয়।
এসআরবি জানায়, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে বিকেল ৩টার দিকে নগরের লালখান বাজার এলাকা থেকে ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এ সময় তার কাছ থেকে শিশু সাবিহা নূরকে উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে কিশোর র্যাবকে জানায়, তার মামি দিল আরা বেগম ও মামা মোজাম্মেল হোসেনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে শিশুটিকে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অপহরণ করেছিল সে।
কমপ্লেক্সের সামনে থেকে মোজাম্মেল হোসেন (৪১) এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে দিল আরা বেগমকে (৪০) আটক করে।
এসআরবি-৭-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গ্রেফতার দুজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চান্দগাঁও থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুটিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার