গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে বিএনপি জোটের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লক্ষ ৪২ হাজার ৭৭২ পেয়ে নয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন সাবেক এমপি শামীম কায়সার লিংকন।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোট ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টিসহ ৪ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থীর মধ্যে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে দাঁড়িপাল্লার চেয়ে ৩ হাজার ৩৪ ভোট বেশি পেয়ে শামীম কায়সার লিংকন বিজয়ী হয়েছেন।
১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম সরকার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৩৮ ভোট।
এ ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অপর ৪ প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির কাজী মশিউর রহমান লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৩৬০ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী এ্যাড. আব্দুর রউফ আকন্দ মোটর সাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৫৫২ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৩৭৩ ভোট এবং বিল্পবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী আতোয়ারুল ইসলাম নান্নু কোদাল প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৩৬৮ ভোট। নির্বাচনে এ চার জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ নির্বাচনী আসনে মোট ভোটার ছিল ৪ লক্ষ ৬৮ হাজার ৩৭৪। এর মধ্যে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লক্ষ ৯২ হাজার ৫৯৬, মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লক্ষ ৮৫ হাজার ৫০৫ এবং বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ৭ হাজার ৯১টি। ভোট প্রদানের হার ৬২.৯৪ শতাংশ।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার