ডেস্ক নিউজ
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে দেশের রাজনীতিতে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পরে বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জামায়াত আমির ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনদুর্ভোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়। গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন না হলে দেশের রাজনীতিতে সংকট তৈরি হতে পারে বলে মতবিনিময় সভায় উল্লেখ করেছেন জামায়াতের আমির।
তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে কোনো ভিন্নমত থাকলে তা স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের কয়েকজন শীর্ষ নির্বাহী। তাদের মতে, যারা গণভোটের রায় নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন, তাদের স্পষ্টভাবে জানানো উচিৎ-তারা জনগণের রায় মেনে নেবেন কি না।
ব্রিফিংয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, মতবিনিময় সভায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, জনজীবনের দুর্ভোগ, সন্ত্রাস এবং সংকীর্ণ দলীয়করণসহ দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি জনমত গঠন ও জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দিয়েছেন জামায়াত আমির।
সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে জামায়াতের কার্যক্রম নিয়ে কোনো ভালো পরামর্শ বা সমালোচনা থাকলে তা খোলামেলাভাবে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বৈঠকে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের শীর্ষ নির্বাহীরা তাদের খাতের বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে প্রিন্ট মিডিয়ার তুলনায় ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে বেতন কাঠামো, ওয়েজ বোর্ড ও কর্মীদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাঠামোগত সমস্যার কথা আলোচনা হয়েছে।
এসব সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আলোচনা ও দাবি তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন জামায়াত আমির। এ ক্ষেত্রে জামায়াত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন বলে জানান গোলাম পরওয়ার।
তিনি আরও বলেন, বৈঠকে উপস্থিত গণমাধ্যম নির্বাহীরা বর্তমান সংসদে বিরোধীদল হিসেবে জামায়াতের ভূমিকা গঠনমূলক, শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক বলে মত দিয়েছেন।
জামায়াত আমির এসময় বলেন, দেশের ও জনগণের স্বার্থে সরকারের সব ভালো কাজে সংসদের ভেতরে ও বাইরে সহযোগিতা করবে জামায়াত। তবে জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দলটি অবস্থান নেবে এবং সেই অবস্থান হবে অহিংস, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত ভবিষ্যতে রাজপথের আন্দোলনগুলোও অহিংস রাখার নীতিতে বিশ্বাস করে। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা বিভিন্ন গঠনমূলক রাজনৈতিক কর্মসূচির পরামর্শ দিয়েছেন।
এসময় জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলালসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার