ডেস্ক নিউজ
চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় লিজের সরকারি জমি জালিয়াতি ও আত্মসাতের অভিযোগে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।বুধবার (৭ অক্টোবর) দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করে চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-পরিচালক মো. রিয়াজ হোসেন।
মামলার আসামিরা হলেন, নগরীর পূর্ব মাদারবাড়ি ৬৪ দারোগাহাট রোডের মৃত তবারক উল্লাহর স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৯০), তার ছেলে মেসার্স কনকর্ড ট্রেডিং কোং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. ফরিদ আহমদ (৫৩), মোহাম্মদ ফয়েজ আহমদ (৬১), আগ্রাবাদ কনভেনশন হলের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ফাহিম হোসেন (৩৯), তিন মেয়ে হাসিনা মমতাজ (৬০), রোকেয়া সুলতানা (৫৭), শাহীন সুলতানা (৫০) এবং বাগেরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ আলম (৪৬)।
মামলায় পরস্পর যোগসাজশে জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া রেকর্ডপত্র সৃজন করে তা খাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে সরকারি খাসের ২৪ দশমিক ৯৬ শতক সরকারি জমি আত্মসাৎ করে। সরকারি ওই জমির বাজারমূল্য ১৭ কোটি ১২ লাখ ৬৩ হাজার ১৪০ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
জালিয়াতি হওয়া জমিটি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার গোঁসাইলডাঙা মৌজায় অবস্থিত, জে এল নং-১৬। ২৪ দশমিক ৯৬ শতকের ওই প্লটটি ১৯৫৮ সালে মেসার্স এসজেএন্ডজি ফজলে এলাহী লিমিটেডকে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দেন ওই সময়ের সরকারি প্রতিষ্ঠান চিটাগাং টাউন প্লানিং কমিটি।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ত্যাগ করলে এটি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকার আয়ত্বে নেয়। পরবর্তীতে ২০০২ সালে মামলার আসামি কনকর্ড ট্রেডিংয়ের পক্ষে ফরিদ আহমদ ও তার বোন হাসিনা মমতাজ পুরোভবন ও জমি ভাড়া লিজ নেয়। পরে ফরিদ আহমদের মা ফাতেমা বেগমের নামে জাল দলিল বানিয়ে জমিটি আত্মসাৎ করা হয়।
বর্তমানে ভবনের বাজারদরে ভাড়াসহ সাকুল্যে ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৬৮ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।এ অপরাধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার