মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
‘মাদক থেকে দূরে থাকতে চাই, কাটলাতে খেলার মাঠ চাই’—এমন দাবিতে ব্যানার হাতে বিরামপুরে খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ২নং কাটলা ইউনিয়নের একদল যুবক। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনের ঠিক আগমুহূর্তে বিরামপুর ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠে তারা এ দাবি তুলে ধরেন। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘২নং কাটলা ইউনিয়নবাসীর প্রাণের দাবি—কাটলাতে খেলার মাঠ নাই, মাঠ চাই।’
ব্যানারটি লাঠিতে টাঙিয়ে মাঠে দাঁড়িয়ে কাটলা ইউনিয়নে একটি খেলার মাঠের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উপস্থিত দর্শক ও অতিথিদের সামনে তুলে ধরা হয়।
খেলার মাঠকে ঘিরে এমন দাবির মধ্যেই দিনাজপুর-৬ আসনের চার উপজেলা ও পৌর এলাকার ২৭টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। শনিবার দুপুর ২টায় বিরামপুর বড় মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়।
উল্লেখ্য, সারাদেশে শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২৬ সালে সরকারি পর্যায়ে কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও উন্নয়নের সরকারি এই উদ্যোগের লক্ষ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পর্যায়েও খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও তরুণদের মাঠমুখী করা এবং নিয়মিত খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে দিনাজপুর জেলার জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার জেদান আল মূসা, দিনাজপুর-৬ আসনের অন্তর্ভুক্ত চার উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সহধর্মিণী ডাঃ শরীফা করিম স্বর্ণা উপস্থিত ছিলেন।
টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক ফেরদৌস রহমানের নেতৃত্বে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজুর সঞ্চালনায় এবং সামসুল আলমের ধারাভাষ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় রেফারির দায়িত্ব পালন করেন ভোলানাথ সরকার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে সকাল থেকেই বিরামপুর বড় মাঠে দর্শকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দুই মন্ত্রীকে দেখতে এবং ২৭টি দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী আয়োজন উপভোগ করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ মাঠে উপস্থিত হন।
অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে টুর্নামেন্টের উদ্দেশ্য ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর বিষয়ে তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন প্রদর্শনী ও আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে উদ্বোধনী আয়োজনে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার