এম.আব্দুল্লাহ ::
আওয়ামী লীগের পতনের পর কোরবানি-বিরোধী ক্যাম্পেইনে লক্ষণীয় পরিবর্তন এসেছে। গত বছরগুলোতে কোরবানির ঈদের আগে ফেসবুকে যে ব্যাপক প্রচারণা দেখা যেতো; এবার তা অনেকটাই অনুপস্থিত। এই পরিস্থিতি দেশের তথাকথিত প্রগতিশীল জনগোষ্ঠীর অনলাইন সক্রিয়তা এবং আওয়ামী লীগের ক্ষমতার মধ্যে একটি সম্ভাব্য যোগসূত্রের ইঙ্গিত দেয়।
আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন দেশের একটি নির্দিষ্ট প্রগতিশীল অংশ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় ইস্যুতে বেশ সক্রিয় ছিল। তাদের এই সক্রিয়তা অনেক সময় সরকারের পরোক্ষ সমর্থন বা প্রশ্রয় পেতো। কোরবানির মতো ধর্মীয় আচার নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা এর বিরুদ্ধে জনমত গঠনের চেষ্টা এই প্রগতিশীল অংশের কার্যক্রমের একটি অংশ ছিল। এই ক্যাম্পেইনগুলোতে প্রায়শই পরিবেশগত কারণ, পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা বিষয়গুলো তুলে ধরা হতো।
ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এই ধরনের ক্যাম্পেইন কমে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, যে প্রগতিশীল অংশটি পূর্বে সক্রিয় ছিল, তারা বর্তমান সরকারের অধীনে ততটা সমর্থন বা সুযোগ পাচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের মনোযোগ ভিন্ন ইস্যুতে স্থানান্তরিত হয়েছে। তৃতীয়ত, আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতির পর এই গোষ্ঠীটির মধ্যে এক ধরনের নিরুৎসাহ কাজ করতে পারে, যা তাদের অনলাইন সক্রিয়তাকে প্রভাবিত করেছে। রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রায়শই বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের জন্য একটি অনুকূল বা প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করে।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পরিচয় ছিল 'প্রগতিশীল'। এই 'প্রগতিশীলতা' আসলে ক্ষমতা-ঘনিষ্ঠতা বা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার ছিল, যা সমাজের মূল স্রোতের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল না। আওয়ামী লীগের পতনের পর এই তথাকথিত প্রগতিশীল গোষ্ঠীগুলো হয়তো এখন উপলব্ধি করতেছে যে, তাদের অ্যাক্টিভিজম কতটা জনভিত্তিহীন ছিল এবং কতটা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার উপর নির্ভরশীল ছিল। এই উপলব্ধির কারণেও তাদের কর্মকাণ্ডের অ্যাক্টিভিটি পরিবর্তন হয়েছে।
এই পরিবর্তনটি ইঙ্গিত দেয় যে, বাংলাদেশে সামাজিক ও ধর্মীয় বিতর্কের ধারা এবং অনলাইন সক্রিয়তা রাজনৈতিক ক্ষমতার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। সরকারের প্রকৃতি এবং তার নীতিগুলো বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং তাদের কার্যক্রমের পরিধি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
লেখক: সংগঠক ও অনলাইন এক্টিভিস্ট
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার